Veshoj Pulse

সঠিক নিয়মে পেলভিক ফ্লোর বা কিগেল ব্যায়াম (Kegel Exercise): উপকারিতা ও নিয়মাবলী

সঠিক নিয়মে পেলভিক ফ্লোর বা কিগেল ব্যায়াম (Kegel Exercise): উপকারিতা ও নিয়মাবলী

পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ, যা সাধারণ ভাষায় কিগেল ব্যায়াম নামে পরিচিত, পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক অনুশীলন। তলপেটের নিচের অংশ অর্থাৎ মূত্রাশয়, জরায়ু ও অন্ত্রকে সঠিক অবস্থানে ধরে রাখতে এই পেশিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আজকের ব্লগে আমরা জানবো কীভাবে সঠিক নিয়মে এই ব্যায়াম করবেন এবং এর মূল উপকারিতাগুলো কী কী।

১. পেলভিক ফ্লোর ব্যায়াম কী?

আমাদের শরীরের পেলভিক অঞ্চলে (তলপেটের নিচে) কিছু পেশি থাকে যা মূত্রাশয় ও পায়ুপথসহ ভেতরের অঙ্গগুলোকে সহায়তা দেয়। বয়স বৃদ্ধি, গর্ভাবস্থা, অতিরিক্ত ওজন বা ভারী জিনিস তোলার কারণে এই পেশিগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পেলভিক ফ্লোর ব্যায়ামের মাধ্যমে এই পেশিগুলোকে পুনরায় শক্তিশালী করা সম্ভব।

২. কীভাবে সঠিক পেশি চিহ্নিত করবেন?

ব্যায়াম শুরু করার আগে সঠিক পেশি চেনা জরুরি। প্রস্রাব করার সময় মাঝপথে কিছুক্ষণের জন্য প্রস্রাব আটকে রাখার চেষ্টা করুন। যে পেশি ব্যবহার করে আপনি প্রস্রাব থামালেন, সেটাই হলো পেলভিক ফ্লোর মাসল। (নোট: পেশি চেনার জন্য এই পরীক্ষা একবার বা দুবার করা যেতে পারে, নিয়মিত প্রস্রাব আটকে রাখা উচিত নয়।)

৩. সঠিক নিয়মে কিগেল ব্যায়াম করার ধাপসমূহ

  1. আরামদায়ক অবস্থান নিন: প্রথমে সোজা হয়ে শুয়ে বা চেয়ারে বসে শরীর শিথিল করুন।
  2. পেশি সংকুচিত করুন: আপনার চিহ্নিত করা পেলভিক পেশিগুলোকে ভেতরের দিকে টেনে ধরে রাখুন।
  3. ধরে রাখুন: ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড এই সংকোচন বজায় রাখুন এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন।
  4. শিথিল করুন: এরপর ধীরে ধীরে পেশিগুলোকে ৩ থেকে ৫ সেকেন্ডের জন্য ছেড়ে দিন।
  5. পুনরাবৃত্তি: এভাবে একটানা ১০-১২ বার এই প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করুন। দিনে ২ থেকে ৩ বার এটি অনুশীলন করতে পারেন।

৪. ব্যায়াম করার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

  • পেট, উরু বা পাছার পেশি শক্ত করবেন না।
  • ব্যায়াম করার সময় শ্বাস আটকে রাখবেন না; স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন।
  • অতিরিক্ত পেশিতে চাপ দেবেন না, ধীরে ধীরে সময় বাড়ান।

৫. পেলভিক ফ্লোর ব্যায়ামের উপকারিতা

  • মূত্রাশয়ের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায়।
  • গর্ভাবস্থার পর দ্রুত শরীর পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।
  • কোমর ও তলপেটের স্থায়িত্ব ও শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • সার্বিক শারীরিক সুস্থতার উন্নতি ঘটায়।

পরামর্শ

আপনার যদি কোনো ধরনের তীব্র শারীরিক সমস্যা বা ব্যথা থাকে, তবে ব্যায়ামটি শুরু করার আগে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

আরও পড়ুন: পুরুষের প্রাণশক্তি ধরে রাখার ৫টি অভ্যাস।

কোনো সমস্যায় গোপনে কথা বলতে চাইলে Free Consultation নিতে পারেন।

পণ্য দেখতে চাইলে Shop ঘুরে আসুন।

অর্ডার করতে চাইলে How to Order পেজটি দেখে নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top